February 23, 2024, 10:18 am

নোটিশ:

জরুরি ভাবে প্রতি জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক নিয়োগ চলচ্ছে আগ্রহী হলে ০১৮১৩৮৭৭৪০২ হোয়াটসঅ্যাপ এ যোগাযোগ করুন।

সংবাদ শিরোনাম :
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীয় মেয়র হচ্ছেন শায়লা পারভীন দাউদকান্দি পৌরসভা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত রাণীশংকৈলে কোচের ধাক্কায় ভ্যান চালক গুরুতর আহত রাণীশংকৈলে জাতীয় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত বাগমারার তালতলী বাজার জামে মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন এমপি আবুল কালাম আজাদ নাসিরনগরে “অমর একুশে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” পালিত ভাষা শহীদদের স্মরণে এমপি আবুল কালাম আজাদের শ্রদ্ধা নিবেদন ২১ শে ফেব্রুয়ারি’র প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এমপি আবুল কালাম আজাদ রাণীশংকৈলে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করেন বাবর আলী নাসিরনগর উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা
নীতিমালা হচ্ছে জ্বালানি সাশ্রয়ী ভবন নির্মাণে

নীতিমালা হচ্ছে জ্বালানি সাশ্রয়ী ভবন নির্মাণে

দেশে মোট বিদ্যুতের ৫৬ শতাংশ ব্যবহৃত হয় আবাসিক গ্রাহক পর্যায়ে। চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যেও আবাসিক খাতে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বিদ্যুতের ব্যবহার। এর সঙ্গে বাড়ছে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণও। ফলে বৈশ্বিক জলবায়ুর জন্য ক্ষতিকর কার্বন নিঃসরণ কমাতে এবং বিদ্যুতের সাশ্রয়ে সরকার পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণের ওপর জোর দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ বিভাগ ‘বিল্ডিং এনার্জি ইফিসিয়েন্সি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট রেটিং (বিইইইআর) সংক্রান্ত একটি গাইডলাইন (নীতিমালা) প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। এ নীতিমালার নীতিগত অনুমোদন পেতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সার সংক্ষেপ পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পর এ গাইডলাইন অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করা হলে ভবন মালিকরা পাবেন সরকারি সুবিধা। অন্যথা শাস্তির ব্যবস্থাও থাকবে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী

অবকাঠামো এবং ভবন নির্মাণ করা হলে আবাসিক খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার ৫৬ শতাংশ থেকে ২৮ শতাংশের কাছাকাছি নামিয়ে আনা সম্ভব। অর্থাৎ অবকাঠামো বা ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করা যাবে। এতে বিদ্যুত খাতে রাষ্ট্রের ব্যয়ও কমে আসবে বলে মনে করেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করে দেখেছে, বর্তমানে অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় অনেক বেশি পরিমাণ জ্বালানি, পানি ও নানা ধরনের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ধারা থেকে বেরিয়ে জ্বালানি সাশ্রয়ী ইমারত বা অবকাঠামো নির্মাণকে উৎসাহিত করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে সরকারের টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ¦ালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) বিইইইআর সংক্রান্ত গাইডলাইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এ গাইডলাইন মেনে ভবন নির্মিত হলে আলো-বাতাস বেশি পরিমাণে প্রবেশ করবে। ফলে বিদ্যুতের ব্যবহারও কমে আসবে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এখন সময় এসেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা। আমাদের দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যবহার বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে অপচয়ও। এতে সংকট পিছু ছাড়ছে না। এনার্জি ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে জ্বালানির সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অপচয় শূন্যের কোঠায় নামাতে হবে।

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, আমাদের দেশে ভবনগুলো এয়ারটাইট করে নির্মাণ করা হচ্ছে। অনেক নিয়মনীতিমালা থাকলেও সেটা মানা হচ্ছে না। ফলে রোজ ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুতের ব্যবহার হয়। অথচ ভারত, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম এমনকি উন্নত দেশগুলো পরিবেশবান্ধব নকশা প্রণয়ন করে অবকাঠামো ও ভবন নির্মাণ করছে। ফলে বিদ্যুতের ব্যবহার হচ্ছে সর্বনিম্ন।

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, এখন ইকো ফ্রেন্ডলি ভবন নির্মাণকে উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব ভবন তৈরি করলে নির্মাণ ব্যয় কম হবে। দেশে যে ধরনের ভবন এখন নির্মাণ হচ্ছে তাতে তাপ বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু ইকো ফ্রেন্ডলি ভবন নির্মাণ হলে জ্বালানির সাশ্রয় হবে। তিনি বলেন, এখন থেকে ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রেও ইকো ফ্রেন্ডলি বা গ্রিন বিল্ডিং ভবনকে উৎসাহ দেওয়া হবে। যারা এ ধরনের ভবন নির্মাণ করবেন, তারা সরকারের সুবিধা পাবেন।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডে (বিএনবিসি) ভবন নির্মাণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ কোডে ন্যূনতম জ্বালানি দক্ষতা ও সংরক্ষণ বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে ভবন নির্মাণে এ কোড বাধ্যতামূলকভাবে মানা হচ্ছে না। ফলে আপডেট ন্যাশনাল ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন (এনডিসি) ২০২০-এর নির্দেশনা অনুযায়ী কার্বণ নিঃসরণ হ্রাসে সব ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী উদ্যোগী হওয়া দরকার। সরকার কার্বন নিঃসরণ হ্রাসকরণ এবং জ¦ালানির সীমিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে ভবন নির্মাণ কার্যক্রমকে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইনের আওতায় আনতে চায়।

নিজস্ব বিধি অনুযায়ী জ্বালানি সাশ্রয়ী কার্যক্রম সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন করছে স্রেডা। ফলে সরকার নতুন গাইডলাইনের আওতায় গ্রিন বিল্ডিং কনসেপ্টের ওপর জোর দিয়ে বিইইইআর নির্ধারণ করেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করলে ভবন মালিকরা সরকারের কাছ থেকে নানা সুবিধা পাবেন। নতুন গাইডলাইনে বিভিন্ন পর্যায়ে পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। পয়েন্ট অনুযায়ী সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে ভবন নির্মাণে সাশ্রয়ী ঋণ প্রদান, হ্রাসকৃত হারে সিটি ও পৌর কর পরিশোধের সুবিধা। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন পর্যায়ে নানা সুবিধা।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ আমাদের সময়কে বলেন, এটা একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডের (বিএনবিসি) নির্দেশনায় রয়েছে মূলত ভবন কীভাবে তৈরি করা হবে সেই ধরনের নির্দেশনা। তবে এখন সরকার যে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন গাইডলাইন তৈরি করার চেষ্টা করছে তাতে এনার্জি সেভিং গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নতুন গাইডলাইনে ১০টি ক্যাটাগরিতে ৪৯টি ক্রেডিট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ৪৯টি ক্রেডিটের বিপরীতে ১১৫ পয়েন্ট বিবেচনা করে সুবিধা দেওয়া হবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড প্ল্যানিং, প্রজেক্ট সাইট ম্যানেজমেন্ট, বিল্ডিং ইনভলভ ডিজাইন, ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট, এনার্জি ম্যানেজমেন্ট, ইনডোর এনভায়রনমেন্ট, কনস্ট্রাকশন মেটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট, হেলথ অ্যান্ড সেফটি, ইনোভেশন, বোনাস পয়েন্ট। সব মিলিয়ে ১১৫ পয়েন্ট। পয়েন্ট অনুযায়ী সুবিধা পাবেন ভবন মালিকরা। এসব পয়েন্টকে আবার ৫টি লেভেলে ভাগ করা হয়েছে। যার মধ্যে লেভেল ওয়ানে রয়েছে ৩০ থেকে ৪০ পয়েন্ট, লেভেল টুতে রয়েছে ৪১ থেকে ৫০ পয়েন্ট, লেভেল থ্রিতে রয়েছে ৫১ থেকে ৬০ পয়েন্ট, লেভেল ফোরে রয়েছে ৬১ থেকে ৮০ পয়েন্ট এবং লেভেল ফাইভে রয়েছে ৮১ থেকে ১০০ পয়েন্ট। এসব পয়েন্টের ওপর নির্ভর করে ভবন মালিকরা সরকারের সুবিধা পাবেন। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নতুন গাইডলাইনের আওতায় দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে- একটি বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে স্টিয়ারিং কমিটি। আরেকটি টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ¦ালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) সদস্যকে আহ্বায়ক করে টেকনিক্যাল কমিটি। এসব কমিটিতে প্রয়োজনীয় সব সংস্থা ও অধিদপ্তরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন........




© All rights reserved © ২০২০ আলোকিত ভোরের বার্তা
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com